নিউজ ডেস্ক
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬), দুপুর ১১টা ৪৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রে প্রায় ৫৫০ কোটি টন কয়লার মজুদের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে, যা দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এই কয়লাক্ষেত্রের বিস্তৃতি ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রটি এতদিন ১০০ কোটি টন মজুদের হিসাবের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় ১৪টি কূপের তথ্য বিশ্লেষণ করে মজুদের এই বিশাল পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। খনির কোনো কোনো স্থানে কয়লাস্তরের পুরুত্ব ৪৪ মিটার পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
জামালগঞ্জের কয়লা ভূগর্ভের ৬৪০ থেকে ১,১৫৮ মিটার গভীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রচলিত পদ্ধতিতে উত্তোলন ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত খনি খননের পরিবর্তে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড কোল গ্যাসিফিকেশন’ (ইউসিজি) প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূগর্ভেই কয়লাকে গ্যাসে রূপান্তর করা সম্ভব। গবেষণায় ইউসিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জামালগঞ্জকে ৯৩.৬ শতাংশ সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানান, আমদানিনির্ভরতা কমাতে নিজস্ব খনিজ সম্পদের সঠিক ব্যবহার জরুরি। ২০২৬ অর্থবছরে দেশে কয়লা আমদানির পরিমাণ ২০.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যার জন্য প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন টাকা ব্যয় হয়েছে। নিজস্ব উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
তবে ৫৫০ কোটি টন কয়লাকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য মজুদ হিসেবে গণ্য করার আগে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রয়োজন। খনিজ সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আধুনিক থ্রিডি ভূতাত্ত্বিক জরিপ, পাইলট প্রকল্প এবং পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) করা এখন সময়ের দাবি।