আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্রাম পর্যায়ে এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছে। সেই সংকট নিরসনে হাসপাতাল সংস্কারের পাশাপাশি বিশেষ ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা বাড়িতে গিয়ে নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করবেন।
ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজন হলে ফরিদপুরকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপান্তর করা হবে। এছাড়া এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা পাবেন। অন্যদিকে দেশের নারী জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে তারেক রহমান সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে দিতে পারি, তবে ১৩ তারিখ থেকেই দেশে একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচার হটিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছে।
একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা ওই দলের ভূমিকা ১৯৭১ সালেও কলঙ্কজনক ছিল।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বরিশালের জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুর আসেন তারেক রহমান। এটিই ছিল ফরিদপুরে তাঁর প্রথম কোনো জনসভা। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। জনসভায় ফরিদপুর অঞ্চলের ৫টি জেলার ১৫ জন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।