টেলিগ্রাফ রিপোর্ট | জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার আশুলিয়ায় সাতজনকে গুলি করে হত্যা এবং ভ্যানে স্তূপ করে ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বড় রায় দিয়েছেন আদালত। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসিসহ মোট ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ছাড়াও রয়েছেন আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, এসআই মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া। তাঁদের মধ্যে আটজন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও বাকিরা এখনো পলাতক রয়েছেন।
একই রায়ে আদালত সাতজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম এবং সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন। এছাড়া অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় একজনকে ক্ষমা করা হয়েছে।
রায়ে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, এই বাজেয়াপ্ত সম্পদ মামলার ভুক্তভোগী ও শহীদদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে।
গত বছরের আগস্টে শুরু হওয়া এই বিচারে প্রসিকিউশন পক্ষ লাশ পোড়ানোর ভিডিও চিত্রসহ বিপুল পরিমাণ দালিলিক তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ আদালতে দাখিল করে। বিচার চলাকালীন আসামিদের মধ্যে একজন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেছিলেন।
গত বছরের ৫ অগাস্ট আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশের গুলিতে নিহতদের লাশ একটি ভ্যানে স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় সাতজন আন্দোলনকারী শহীদ হয়েছিলেন বলে আজ আদালত নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের। মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।