দোয়ার অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, চিতলমারীর কাটিপাড়া মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান এ অভিযোগ করেন। তিনি ও তার অনুসারীরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
এ সময় তার প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেন— মাওলানা শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; ডা. নাজমুল হুদা, সেক্রেটারি, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ; মাওলানা নাসির উদ্দীন, সহ-সভাপতি, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ; মো. আব্দুল্লাহ গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; মো. আব্দুল করিম, সভাপতি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন; এবং মো. ফজল আলী খান, সভাপতি, ইসলামী শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ।
হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কয়েকদিন আগে পাশ্ববর্তী এক গ্রামে অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা বলে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং বক্তব্য দেন।
তার বক্তব্য শেষ হতেই ঘোষণা আসে—অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছেন। প্রথমে একজনের নাম ঘোষণা করে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করা হয়। এরপর তার নাম ঘোষণা করা হলে, কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই একজন ব্যক্তি তাকে সামনে টেনে নিয়ে গিয়ে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি তখনই বুঝতে পারেননি। পরে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে একপর্যায়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে একাধিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়।
হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি প্রায় চার দশক ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীরের অনুসারী)–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার দাবি, চিতলমারীর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পরিকল্পিতভাবে তাকে অপমান ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেছেন।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার অজ্ঞাতসারে দোয়ার অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে এনে রাজনৈতিক দলে যোগদানের নাটক সাজানো হয়েছে। এটি কেবল অপমানজনক নয়, বরং বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা।”
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা বলেন, মানুষের বিশ্বাস নিয়ে এ ধরনের ছলচাতুরী বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এখনো আপনারা ক্ষমতায় নেই, অথচ যদি আগেই এ ধরনের প্রতারণা শুরু করেন, তাহলে ভবিষ্যতে কী করবেন তা সহজেই বোঝা যায়।”