ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারেন প্রায় ৩০ শতাংশ তরুণ ভোটার, যারা এবারই প্রথম ব্যালট পেপারে নিজের পছন্দের প্রতিফলন ঘটাবেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার বঞ্চিত এই বিশাল অংশটির ‘ভোটিং প্যাটার্ন’ সম্পর্কে কোনো পূর্ব ধারণা না থাকায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর এই তরুণদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের দাবি এবারের ভোটের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার এবারই প্রথম ভোট দেবেন। তাঁর মতে, নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষা করাই হবে এই নির্বাচনের প্রধান ইস্যু। তবে তাঁর কথায় উঠে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে এক ধরণের আক্ষেপ। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ যে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান নয়।
শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, তাঁরা এমন এক রাষ্ট্র চান যেখানে দুর্নীতি ও ঘুষ ছাড়া চাকরি মিলবে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধ এবং চলাচলের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তরুণ ভোটারদের কোনো গতানুগতিক রেকর্ড না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলো তাঁদের নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না। একইসঙ্গে নারী ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে বড় দুই জোটের কর্মীদের ‘ভোটকেন্দ্র পাহারা’ দেওয়ার ঘোষণা কেন্দ্রে সহিংসতা ও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারলেও তাদের প্রথাগত সমর্থকদের ভোট নিয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে এক ধরণের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, প্রথাগত আওয়ামী সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত ‘মন্দের ভালো’ বিবেচনা করে ভোট দিতে পারেন, যা অনেক আসনে ১০ শতাংশের মতো অতিরিক্ত ভোট যোগ করে ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এছাড়া এবারের নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই জেনারেটেড গুজব। নির্বাচনের দিন অপপ্রচার রোধে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের সমন্বিত প্রস্তুতির অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।