বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হলেও আন্তর্জাতিক সূচকে তার প্রতিফলন এখনো মেলেনি। বার্লিনভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ অবনতি হয়ে ১৩তম স্থানে পৌঁছেছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বুধবার ঢাকায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। গত বছর ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৯তম অবস্থানে ছিল।
চলতি বছর ১০০-এর স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২৪, যা গত বছরের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেশি। টিআইবি বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, স্কোর বৃদ্ধিতে তার কিছুটা প্রভাব রয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের তুলনায় দ্রুত উন্নতি করায় সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এক ধাপ পিছিয়ে গেছে।
টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কর্তৃত্ববাদ পতনের পরও রাষ্ট্রীয় ও আইনি কাঠামোর প্রত্যাশিত পরিবর্তন হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”
দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে কেবল আফগানিস্তান। এই অঞ্চলে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে ভুটান। বৈশ্বিক গড়ের (৪২) তুলনায় বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর (২৪) অনেক নিচে, এমনকি সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর গড়ের চেয়েও বাংলাদেশের দুর্নীতির মাত্রা বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের সূচক অনুযায়ী, ৮৯ স্কোর নিয়ে টানা কয়েক বছরের মতো ডেনমার্ক বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। অন্যদিকে ৯ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে তালিকার সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমলাতন্ত্রের প্রভাব এবং রাজনৈতিক ও ক্ষমতাধর শক্তির দাপট না কমলে শুধু সরকার পরিবর্তন করে দুর্নীতির এই ভয়াবহ চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশের জন্য এই স্কোরকে ‘অতি উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।