ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ১৮ মাস পর আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে এবারের ভোট কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; ভোটাররা একইসাথে সংবিধানে বড় ধরণের পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি ‘গণভোটে’ অংশ নিচ্ছেন।
সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটারদের হাতে দুটি করে ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে। সাদা রঙের ব্যালটে ভোটাররা তাঁদের সংসদীয় আসনের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন। অন্যদিকে, গোলাপি রঙের ব্যালটটি হলো ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য। সেখানে কেবল ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ সূচক ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই গণভোটকে দেখা হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে।
ভোটগ্রহণ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সকাল ৮টায় মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ঢাকা-১৫ আসনের ভোটার ডা. শফিকুর ভোট দেওয়া শেষে বর্তমান নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় নির্বাচনে প্রধানত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে।
বিএনপি: ২৯১টি আসনে (ধানের শীষ)। জামায়াতে ইসলামী: ২২৯টি আসনে (দাঁড়িপাল্লা)।
ইসলামী আন্দোলন: ২৫৮টি আসনে (হাতপাখা)। স্বতন্ত্র প্রার্থী: ২৭৫ জন।
নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করতে সারা দেশে প্রায় ১০ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখের বেশি সেনা সদস্য মাঠে রয়েছেন। উপকূলীয় এলাকায় টহল দিচ্ছে নৌবাহিনী। এছাড়া ২ হাজারের বেশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠ পর্যায়ে ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রায় ৫৫ হাজার দেশি এবং ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত রয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।