সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পেছনে দলটির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’-এর মতো অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলো সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা আদর্শিক প্রচারণার চেয়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ইনোভেশন কনসাল্টিং আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। জরিপ অনুযায়ী, বিএনপির এই অর্থনৈতিক ক্যাম্পেইন বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাইয়াত সারওয়ার জানান, জামায়াতে ইসলামী শক্তিশালী আদর্শিক প্রচারণা চালালেও তা নারী ভোটারদের ওপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের যে অঙ্গীকার বিএনপি দিয়েছিল, তা-ই দলটিকে ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট পেতে সাহায্য করেছে। উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে জামায়াত পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট।
অনুষ্ঠানে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করা হয়। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ জানাতে চার দিন সময় নেওয়ায় একে কমিশনের ‘অদক্ষতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংস্থাটির প্রতিনিধি সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন। তাঁদের মতে, তথ্যের এই বিলম্ব জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
বিএনপির এই ঐতিহাসিক জয়ে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বার্তায় তিনি এই জয়কে ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।