লালমনিরহাট প্রতিবেদক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মাদাতি ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবারও গ্রেফতার হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সকালে কারামুক্ত হন জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব। জেলগেটে তার আইনজীবী ও আপন ভাই অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কাজলসহ সমর্থকরা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের পথরোধ করে। পরে আরও কয়েকজন পোশাকধারী ডিবি সদস্য এসে তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আইনজীবী ও সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের কিছুটা ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। সমর্থকরা গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ রাতে নিজ বাসভবন থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবকে গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে সোমবার (১৬ মার্চ) জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ওইদিন তিনি মুক্তি পাননি। মঙ্গলবার সকালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই ডিবি পুলিশ তাকে পুনরায় আটক করে।
চেয়ারম্যানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কাজল অভিযোগ করে বলেন, ২০২৫ সালের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আদালত গতকাল তাকে জামিন দিয়েছেন। আজ কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় কোনো ওয়ারেন্ট বা সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই ডিবি পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক শামসুজ্জামান সবুজের সঙ্গে এমপির ‘৩০ শতাংশ’ ভিজিএফ চালের বরাদ্দ নিয়ে চেয়ারম্যান বিপ্লবের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিও প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ঘটনার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে আইনি চাপ বাড়তে থাকে।
রাজু মিয়া
লালমনিরহাট (কালীগঞ্জ) প্রতিবেদক
/