মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা নালারকূল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে থানার নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি গাড়ি থেকে নিয়ম করে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে, যা না দিলে চালকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও গাড়ি আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, ফয়েজ আহমদ নামে এক ব্যক্তি এই চাঁদা আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি বিভিন্ন পয়েন্টে লোক নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত এই অর্থ সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কেউ এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ভুক্তভোগী কয়েকজন চালক জানান, তারা বাধ্য হয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন। কারণ টাকা না দিলে নানা অজুহাতে গাড়ি আটকে রাখা হয় কিংবা অপ্রয়োজনীয় জটিলতায় ফেলা হয়। ফলে সময় ও আর্থিক ক্ষতির ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ না করে চাঁদা দিয়ে যান।
এ বিষয়ে এমডি আরফাত নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, এই চাঁদার অর্থ নাকি থানার এক ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় এবং তার অধীনে বিভিন্ন স্থানে লোক নিয়োজিত রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া সড়কে এ ধরনের অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি চাঁদাবাজির শামিল। প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায় করলে তা প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবেও গণ্য হতে পারে, যার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা না হলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।