নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। “টাকা দিয়ে পানি কিনে খেতে চাই না”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা পানি বাণিজ্য বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পানি দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কলসবন্ধন কর্মসূচীতে উপকূলবাসী এ দাবি জানান।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্লোবাল প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ও সিডো সাতক্ষীরার সহযোগিতায়, উপকূলীয় যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শরুব ইয়ুথ টিম’ এর আয়োজনে রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে এই কলসবন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। এসময় স্থানীয় নারী ও যুবরা পানির কলস নিয়ে নদীর তীরে অবস্থান নেন।

কলসবন্ধনে তাঁরা “টাকা দিয়ে পানি কিনে খেতে চাই না”, পানি বাণিজ্যিকরন বন্ধ করো “আর কতকাল লবণ পানি খেতে হবে?” সরকারি সেবার আওতায় সুপেয় পানি চাই সহ বিভিন্ন – প্রতিবাদ সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে নিজেদের দাবীগুলো তুলে ধরেন। কলসবন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, শরুব ইয়ুথ টিমের নির্বাহী পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম, শরুবের ডেপুটি কর্ডিনেটর আবিদ হেসেন, শরুবের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর দেবব্রত বিশ্বাস, জলবায়ু যোদ্ধা ফুয়দ মাহমুদ, রবিউল ইসলাম, শরুব ইয়ুথ টিমের স্বেচ্ছাসেবী উম্মে সালমা, হালিমা খাতুন, জেবা তাসনিয়া, আব্দুস সালাম, রাজীব বৈদ্য প্রমূখ।বক্তারা বলেন, “চারিদিকে শুধু পানি, নেই শুধু সুপেয় পানি। বার বার নদী ভাঙনের ফলে উপকূলের মিষ্টি পানির আধারগুলো লবণ পানিতে ডুবে যায়। খাওয়ার পানি সংগ্রহে উপকূলের নারীদের সবসময় সংগ্রাম করতে হয়। বাধ্য হয়ে পানি কিনে খেতে হয়।” তারা আরও বলেন, উপকূলবাসীকে সুপেয় পানির নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লবণাক্ততার কারণে উপকূলের অধিকাংশ পুকুর ও নলকূপের পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারকে দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে কিংবা উচ্চমূল্যে পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে করে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সংকটের সুযোগ নিয়ে পানিকে পণ্য হিসেবে বিক্রি করছেন। তারা গভীর নলকূপ বা সংরক্ষিত উৎস থেকে পানি এনে ড্রাম বা বোতলে করে বিক্রি করছেন, যার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমরা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষ। পানি আমাদের মৌলিক অধিকার। এটা কেনা-বেচার জিনিস হতে পারে না।”এদিকে পরিবেশবিদ লেখক গবেষক পীযুষ বাউলিয়া পিন্টু বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পর্যাপ্ত সরকারি উদ্যোগের অভাব—এসব কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং নিরাপদ পানির উৎস স্থাপনের ওপর সরকারের কঠোর ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
উপকূলবাসীর দাবি, দ্রুত পানি বাণিজ্য বন্ধ করে সরকারিভাবে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।