মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে চরম নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, নির্ধারিত কোনো ভাড়ানীতির তোয়াক্কা না করে চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, যার ফলে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে বটতলী শহর থেকে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে সিএনজিই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হওয়ায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, লোহাগাড়া থেকে মনুফকিরহাট ভাড়া ৩০ টাকা, কানুরাম বাজার ৩৫-৪০ টাকা, আধুনগর ১০ টাকা, চুনতি ২০ টাকা এবং পদুয়া তেওয়ারী হাট ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, একই দূরত্বের ক্ষেত্রে ভাড়ার মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য। উদাহরণস্বরূপ, লোহাগাড়া থেকে এমচরহাট, পুটিবিলা উচ্চ বিদ্যালয় বা হিন্দুপাড়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরত্ব হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটার ভাড়া প্রায় ৬ টাকা ৬৬ পয়সা হলে এ ভাড়া হওয়ার কথা অনেক কম।
একইভাবে, গৌড়স্থান নতুনবাজার পর্যন্ত ভাড়া ৫০ টাকা হলেও কাছাকাছি ছিরামুড়া বা গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত একই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা যাত্রীদের কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। আবার সুখছড়ী কামার দিঘীর পাড় বা উত্তর কলাউজান রবারড্যাম বাজার, যার দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার, সেখানে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা—যা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ভাড়া নৈরাজ্যের পেছনে কোনো প্রকার তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ না থাকায় চালকরা একপ্রকার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে যাত্রীদের নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ একটি স্ট্যাটাস দিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয় পল্লী কবি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ সোলাইমান। তার ওই স্ট্যাটাসে অসংখ্য যাত্রী মন্তব্য করে নিজেদের ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন, যা বিষয়টির ব্যাপকতা প্রমাণ করে।
এ অবস্থায় যাত্রীরা চট্টগ্রাম-১৫ আসন-এর সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত সিএনজি ভাড়ার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপই পারে লোহাগাড়ার সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।