মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পাহাড়-ঘেরা শান্ত রাঙ্গামাটি শহরকে অপরাধমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা পুলিশ। বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং এবং জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধিগুলোর শিকড় উপড়ে ফেলতে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় ১ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যায় শহরের শান্তিনগর ফিশারীঘাট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযানে ১৭ জন পেশাদার জুয়াড়িকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
অভিযানের নেপথ্যে, পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ মিশন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার জনাব মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম মহোদয়ের বিশেষ নির্দেশনায় জেলা পুলিশ বর্তমানে অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, রাঙ্গামাটি সদর থানাধীন পৌরসভাস্থ শান্তিনগর ফিশারীঘাট পুরাতন বাস টার্মিনালের পেছনের একটি যাত্রী ছাউনীর পাশে একটি আবদ্ধ ঘরে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে।সন্ধ্যা ৬:৩০ ঘটিকায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম এলাকাটি ঘিরে ফেলে। প্রায় তিন ঘণ্টার এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে রাত ৯:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা অবস্থায় হাতেনাতে ১৭ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আটককৃতদের পরিচয় ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম আটককৃতদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মধ্যবয়সী। তারা হলেন: ১। মনির হোসেন (৬০), ২। মোঃ ফেরদৌস (৫২), ৩। মোঃ আবুল কালাম (৬০), ৪। আবু তালেব (৫২), ৫। মোঃ মহরম আলী (৫৮), ৬। মোঃ নুরুজ্জামান (৫০), ৭। মোঃ আলম (৪৫), ৮। মোঃ মানিক (৪৫), ৯। মোঃ ছগির (৪০), ১০। রবি আলম (৩৫), ১১। বিশ্বজিৎ বড়ুয়া (৪০), ১২। মোঃ আক্কাস (৩৮), ১৩। মোঃ রিদুয়ান (৪০), ১৪। মহর আলী (৪১), ১৫। মোঃ খোকন (৪৮), ১৬। মোঃ ইলিয়াছ (৩৫) ও ১৭। মহিউদ্দিন (৫০)।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জুয়া খেলার তাস এবং নগদ ১০,৮৮০ (দশ হাজার আটশত আশি) টাকা জব্দ করে।
অভিযান কেবল গ্রেফতারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিযান শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক, ইভটিজিং এবং কিশোর গ্যাং কালচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়।শুধু আইন দিয়ে অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ। আপনাদের এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।
রাঙ্গামাটির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফিশারীঘাট ও বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশের এই আকস্মিক অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরণের আস্তানাগুলো থেকেই কিশোর অপরাধ ও মাদকের বিস্তার ঘটে। পুলিশের এই নিয়মিত তদারকি শহরকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মাদক, জুয়া এবং ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে এই কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতেও জেলার প্রতিটি প্রান্তে অব্যাহত থাকবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।