দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় নিজ আস্তানায় হামলায় নিহত আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী রাজিব মিস্ত্রি (৩৫) কে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার একটি সেলুনের সাসনে থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাব ১২ সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কমান্ডার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) সুদীপ্ত সরকার জানান, রাজীব মিস্ত্রি পীর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি। তার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকায়। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।
এ নিয়ে এ মামলার এজাহারনামীয় একজন সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। আসামী রাজিব মিস্ত্রিকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হলেও এদিন রিমান্ড শুনানী না হওয়ায় তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামী রাজীব পীর হত্যাকান্ডের পর থেকেই পলাতক ছিলেন। প্রথমে পাবনাতে কয়েকদিন আত্মগোপনে থাকেন, এরপরে রাজশাহীতে তার আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। গ্রেপ্তার এড়াতে একাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করছিলেন এবং অন্যের ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গোদাগাড়ীর একটি সেলুনে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন। সেখানেই অভিযান চালিয়ে র্যাব-৫ এর সহযোগীতায় র্যাব-১২-এর সদস্য তাকে গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, দৌলতপুর উপজেলার ৩ নং ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ–পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন এমন অভিযোগে গেল ১১ এপ্রিল তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের দুদিন পওে ১৩ এপ্রিল রাতে পীরের
বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় মামলা করেন, এজাহারে চারজনের নাম পরিচয় উল্লেখ করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য (রুকন) এবং তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফিলিপনগর ইউনিয়নের জন্য ঘোষিত চেয়ারম্যান প্রার্থী। অন্য তিনজন হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজীব মিস্ত্রি ও ইসলামপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এ ছাড়া আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, র্যাবের সহযোগীতায় মামলার অন্যতম প্রধান আসামী রাজিব মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিকালে তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত এদিন রিমান্ড শুনানী না করে আসামীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আগামী রোববার এ শুনানী হতে পারে বলে ওসি জানিয়েছেন। ওসি আরো জানান রাজিব মিস্ত্রিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে ।