মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে তানজিম এহেসান তানিম (১০) নামে এক শিশুকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের পুত্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোসাইঙ্গাঘোনা আউলিয়া মসজিদের পাশে একটি হেফজখানায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত তানিম একই ওয়ার্ডের হাটখোলা মুড়া এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক নেজাম উদ্দিনের ছেলে এবং চুনতি আনসার ভিডিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
অভিযুক্ত সোহেল ইসলাম চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন (ইয়াছিন মাঝি) এর পুত্র এবং স্থানীয় মোহাম্মদিয়া হেফজখানার পরিচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজ আদায়ের জন্য তানিম আউলিয়া মসজিদে যায়। নামাজের আগে পাশের মোহাম্মদিয়া হেফজখানায় ওজু করতে গেলে দানবাক্সের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকে ডেকে নেয় সোহেল ইসলাম। পরে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই দানবাক্স থেকে টাকা চুরির অভিযোগ এনে শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে সে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়।
শিশুর পিতা নেজাম উদ্দিন জানান, জুমার নামাজ শেষে তিনি সিএনজি অটোরিকশায় করে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছু জানতেন না। পরে বাড়িতে এসে তানিম মারধরের বিষয়টি জানালে তিনি ছেলেকে নিয়ে বিচার চেয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, পরে আহত শিশুকে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে চেয়ারম্যানপক্ষের লোকজন বাধা দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
শুক্রবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আহত শিশুর বাড়ি ও প্যানেল চেয়ারম্যানের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় শিশুর পরিবারের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বহিরাগত কেউ এলে চেয়ারম্যানপক্ষের লোকজন তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও দেখা গেছে।
ঘটনার সময় অভিযুক্ত সোহেল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন মাঝি বলেন, “এটি একটি সামান্য বিষয়। সামাজিকভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কাজ করায় ছেলেকে বকাঝকা করা হয়েছে।”
চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্বাস আলী জানান, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।