আতিকুর রহমান আশিক
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বর্তমান সমাজে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি ধর্ষণের ঘটনা শুধু একজন নারীর ওপর নির্যাতন নয়, বরং তার স্বপ্ন, সম্মান, মানসিক শান্তি এবং পুরো পরিবারের স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ধর্ষকের বিচার শেষ হওয়ার আগেই ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, সামাজিক চাপ সহ্য করতে না পেরে নীরব হয়ে যায় কিংবা জীবন থেকে হারিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, দেশে বহু ধর্ষণ মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়ে যায়। প্রথমে মামলা, এরপর তদন্ত, আদালতের শুনানি—সব মিলিয়ে বছরের পর বছর কেটে যায়। এর মধ্যে অনেক অভিযুক্ত প্রভাব, ক্ষমতা কিংবা আইনের ফাঁক ব্যবহার করে জামিনে মুক্ত হয়ে যায়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার আরও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থা নিয়ে হতাশা তৈরি হয়।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় সমাজে ভয় কমে যাচ্ছে। যখন অপরাধীরা বুঝতে পারে যে দীর্ঘ সময় পরেও সহজে জামিন পাওয়া সম্ভব, তখন অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া অনেক সময় ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু আইন করলেই হবে না; সেই আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ধর্ষণের মামলার দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সমাজে নারীর প্রতি সম্মান, নৈতিক শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত প্রয়োজন।
সচেতন মহলের দাবি, ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় না দেখে কঠোর ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে সমাজে অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ—দুইটিই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।