আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দি গাদাগাদি করে থাকছেন। জরাজীর্ণ অবকাঠামো, জনবল সংকট ও বর্ষাকালের জলাবদ্ধতার মতো নানা সমস্যার মধ্যেও বন্দিদের জন্য মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৪৬০ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ২ হাজার ৫৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৪২২ জন এবং নারী ১১২ জন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকায় আবাসন ও ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
কারাগারের তিনটি ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও ছাদ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষাকালে কারাগারের ভেতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্রায় ২০০টি পদ শূন্য থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়েছে।
উন্নয়নমূলক উদ্যোগ
সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর জেল সুপার আল মামুন বন্দিদের কল্যাণ ও পরিবেশ উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে বন্দিদের জন্য ‘আমার শপ’ চালু, লাইব্রেরি সংস্কার ও কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ অন্যতম। এছাড়া বন্দিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলা ও সংগীতচর্চার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আল মামুন বলেন, “রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দি থাকায় আমাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি বন্দিদের জন্য একটি মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে।”
তিনি আরও বলেন, “কারাগারের কিছু ভবন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রায় ২০০টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা গেলে কারা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু বন্দিদের নিরাপদে রাখা নয়, তাদের সংশোধন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমাজে পুনর্বাসনের উপযোগী করে গড়ে তোলা।”