মামুন রণবীর, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
সোমবার (১৭ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নেত্রকোণার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কাওয়ালীবিন্নী গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কাওয়ালীবিন্নী গ্রামের জজ মিয়া ও জাহাঙ্গীর পক্ষের সঙ্গে নজরুল মিয়ার পক্ষের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত রমজানের ঈদে গরু কেনা ও মাংস ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মীমাংসার জন্য বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ সংঘর্ষে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও রোববার দুপুরে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মদন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে আবু বক্কর, বিপুল মিয়া, রকি খান, রহিছ উদ্দিন, কামাল তালুকদার, শামছুনা আক্তার, আতিকুর রহমান, নজরুল, রাজ্জাক মিয়া, সেকুল মিয়া ও মিস্টার মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, “এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলমান ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তিনি আরও জানান, এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।