নিউজ ডেস্ক
রবিবার (৩০ আগস্ট), রাত ৮টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত একটি সেমিনার দিল্লি পুলিশের বাধায় বাতিল হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিতব্য এই সেমিনারে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অনুষ্ঠানটি শুরুর আগেই পুলিশ সেখানে ব্যারিকেড দেয় এবং আয়োজকদের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি জানায়।
এফসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি পুলিশ শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ বলেন, “তারা শুধু আমাদের বলেছে এই অনুষ্ঠান করার অনুমতি নেই। তবে ঠিক কী কারণে অনুমতি বাতিল করা হয়েছে, তা জানাতে পুলিশ অস্বীকৃতি জানিয়েছে।”
সেমিনারে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ও বিদেশি আলোচকের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অনুষ্ঠানটি বন্ধের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকলে পুলিশ যেকোনো সময় যেকোনো অনুষ্ঠান বাতিল করার অধিকার রাখে।
এর আগে গত ৫ আগস্ট এফসিসি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন। ওই ঘটনার পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভারত সরকার এবার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
সাবেক কূটনীতিক মাহফুজুর রহমান বলেন, “এটি একটি ইতিবাচক সংকেত। বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি ভারত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে, যার ফলে তারা নতুন কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি।”
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এই সেমিনারটি হওয়ার কথা ছিল। এফসিসির সাথে যৌথ আয়োজক হিসেবে ছিল বেলজিয়ামভিত্তিক ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’। অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার পর ঘটনাস্থলে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সুত্র-বিবিসি