নিউজ ডেস্ক
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬), বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ক্ষমতায় ফেরার জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বাংলাদেশে ফিরতে চান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিজের দেশ ও মানুষের কাছে ফেরা ছাড়া সারা জীবন বিদেশে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৬০০টির বেশি মামলা হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং মানুষের পাশে থাকার বিষয়।
আমি আমার নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি, আমি বুঝতে পারছি না কেন এতে আপত্তি করা হচ্ছে। আমি নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে চাই। আমাকে আমার দেশে, আমার আপনজনদের কাছে ফিরতেই হবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি কমে ২.২২ শতাংশে নেমেছে এবং শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
চিন থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে প্রশ্ন
দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে চিনের কাছ থেকে ২.৩ বিলিয়ন ডলারে জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং সার ঘাটতির মতো পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে যুদ্ধবিমান কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দলটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং কোনো ভুল থাকলে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তার বিচার করবে।