নিউজ ডেস্ক
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, দুপুর ১২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বৌদ্ধ রাজ্য থেকে ইসলামি সালতানাতে রূপান্তরের ৯০০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১১৫৩ খ্রিস্টাব্দে দেশটিতে ইসলামের আগমন ঘটে। এ উপলক্ষে রোববার দেশজুড়ে ধর্মীয় আলোচনা, খুতবা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রায় নয় শতাব্দী ধরে মালদ্বীপের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে ইসলামের গভীর সম্পর্ক স্মরণ করতে এসব আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। এ উপলক্ষে হুলহুমালেতে ‘সুলতান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ গ্র্যান্ড মসজিদ ও ইসলামী সভ্যতা কেন্দ্র’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মালদ্বীপের ইসলামী যুগের সূচনার সঙ্গে যার নাম জড়িত, সেই শাসকের নামেই কেন্দ্রটির নামকরণ করা হয়।
মালদ্বীপে ইসলাম আগমনের বহু আগে থেকেই সেখানে মানুষের বসবাস ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশ ও শ্রীলঙ্কা থেকে বিভিন্ন সময়ে মানুষ সেখানে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে বৌদ্ধধর্ম দ্বীপপুঞ্জটির প্রধান ধর্মে পরিণত হয়। প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার, স্তূপ ও অন্যান্য স্থাপনার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর প্রমাণ বহন করে। তবে ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মালদ্বীপের যোগাযোগ ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগেই গড়ে ওঠে।
আরব ও পারস্যের মুসলিম বণিকরা ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যপথে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ভারত, পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী এসব বাণিজ্যপথে মালদ্বীপ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে ছিল। বিশেষ করে কড়ি শামুকের জন্য মালদ্বীপের খ্যাতি ছিল। দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ কড়ি শামুক রপ্তানি হতো, যা এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া শুকনো টুনা মাছ, নারকেল ও নারকেলের ছোবড়াও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপণ্য।
ইসলামের প্রসার ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
মালদ্বীপে ইসলাম আগমনের প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১১৫৩ সালে দেশটির রাজা ধোভেমি বৌদ্ধধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘সুলতান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ’ নাম ও উপাধি গ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণের মধ্য দিয়েই মালদ্বীপে মুসলিম সালতানাতের সূচনা হয় বলে প্রচলিত রয়েছে।
রাজা ধোভেমির ইসলাম গ্রহণের সঙ্গে আবু আল-বারাকাত ইউসুফ আল-বারবারি নামে এক মুসলিম আলেম ও ইসলাম প্রচারকের নাম জড়িয়ে আছে। তবে ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ‘আল-বারবারি’ উপাধির কারণে তাকে উত্তর আফ্রিকার বারবারি অঞ্চলের বাসিন্দা বলে ধারণা করা হয়। আবার সোমালি ঐতিহ্যে তাকে সোমালিয়ার মানুষ বলেও দাবি করা হয়। অন্য একটি ঐতিহাসিক মত অনুযায়ী, ওই ইসলাম প্রচারকের নাম ছিল ইউসুফ শামসুদ্দীন আত-তাবরিজি এবং তিনি পারস্যের অধিবাসী ছিলেন।