নিউজ ডেস্ক
২৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা ১৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩০৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। সম্প্রতি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এসব অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
তিন মামলার মধ্যে ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াস হোসেন হত্যা মামলায় ৪৩ জন, রায়হান আকন হত্যা মামলায় ৪৯ জন এবং অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসানের হত্যাচেষ্টা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনটি মামলার অভিযোগপত্রেই শেখ হাসিনার নাম রয়েছে। এছাড়া সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও আসামি করা হয়েছে।
ইলিয়াস হোসেন হত্যা মামলা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিক্ষোভ মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচ দিন পর মারা যান ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াস হোসেন। এ ঘটনায় তার বাবা ফারুক খান শেখ হাসিনাসহ ১০২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আক্কেল আলী শেখ হাসিনাসহ ৪৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ৬৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলাটির শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও সজীব ওয়াজেদ জয়, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলে শামস পরশ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, হারুন অর রশীদ ও সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যদের নাম রয়েছে।
রায়হান আকন হত্যা ও মেহেদী হাসান হত্যাচেষ্টা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাড্ডা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রায়হান আকন। এ ঘটনায় তার বাবা কামাল হোসেন ২৩৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানার এসআই সুমন মিয়া শেখ হাসিনাসহ ৪৯ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন এবং ২৩৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন।
অন্যদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসানের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনকে আসামি করেছে পুলিশ। গত ২০ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানার এসআই সেলিম উদ্দীন আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সেলিম উদ্দীন বলেন, “বাদী এজাহারে যাদের নাম দিয়েছেন এবং তদন্তে যাদের নাম এসেছে, তা যাচাই করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছি।”
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযোগপত্রগুলো দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।