জেলা সংবাদদাতা, পিরোজপুর
রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬), দুপুর ২টা ৫৯ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে শনিবার দুপুরে মরদেহ নিয়ে বিপাকে পড়ে পরিবার, পরে পুলিশের সহায়তায় রবিবার রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক অবস্থায় মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুরে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়। সেখানে গার্ড অব অনার শেষে কড়া নিরাপত্তায় মরদেহ রাখা হয়।
নিহতের বোন জানান, স্থানীয়দের বাধার মুখে প্রথমবার খোঁড়া কবর ভরাট হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় কবর খুঁড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ধস্তাধস্তি হয়। পরে পুলিশ লাশ আনার পর আমরা নিজেরাই মাটি দিয়েছি, কোনো পুরুষ মানুষ এগিয়ে আসেনি।’
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতারা কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করেননি। জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না, তাই সদর থানা পুলিশকে লাশ দাফনে সহায়তা করা হয়েছে।’
৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং গত দুই মাস অসুস্থ থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’