জেলা প্রতিনিধি
সোমবার (২৬ অক্টোবর), রাত ৯টা ৪৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ফ্ল্যাট থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা করেন। এ ঘটনায় স্বামী নাজমুল আলমকে আটক করেছে পুলিশ।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আব্দুর রহিম (৫০), আফরোজা বেগম (৪৫), সায়মা আক্তার (২৫), রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও রোকেয়া বেগম (৬৮)। নিহত ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। চিরকুটে ফারজানা লিখেছেন, ‘স্বামীর মানসিক যন্ত্রণা, অত্যাচার-নির্যাতন ও খাবার খরচ পর্যন্ত দেয় না, তারা এই পথ বেছে নিতে বাধ্য করলো।’
এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সাত লাখ টাকা কাবিনে নাজমুলের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নাজমুল ও তার পরিবারের সদস্যরা ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি মামলা করা হয়। পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে তারা পুনরায় সংসার শুরু করেন।
দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। গত ২০ অক্টোবর ফারজানা সেখানে যান। ঘটনার দিন বিকেলে নাজমুলের বোনের স্বামী মামলার বিষয়ে ফারজানার ভাইয়ের কাছে জানতে চান। ওইদিন রাত ৯টার দিকে নাজমুল ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানান।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’