বাঘারপাড়া প্রতিনিধি।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ি ইউপি চেয়ারম্যান পুত্র কুতুব সরদারের বিরুদ্ধে এবার চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। মামলায় কুতুবসহ আরোও চার জন আসামি রয়েছে।
গত শনিবার(১৮ জুন) বাঘারপাড়া উপজেলার চাড়াভিটা বাজারে মাহমুদপুর গ্রামের কাজী আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে চেয়ারম্যান পুত্র সেই কুতুব সরদারের বিরুদ্ধে পশু চিকিৎসকের কাছে চাঁদাদাবী ও টাকা না দেয়ায় বেধড়ক মারপিটের অভিযোগে চারজনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলায় অন্য চার আসামি হচ্ছেন- আব্দুল কাদেরের ছেলে সরাফত হোসেন , দক্ষিণ শ্রীরামপুরের আলাউদ্দিনের ছেলে আল আমিন , পিয়াজি খালেকের ছেলে শরিফ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে , উপজেলার চাড়াভিটা বাজারে কাজী ভেটেনারী হাউজ নামে মাহমুদপুর গ্রামের কাজী আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে পশু চিকিৎসক শহিদুল ইসলামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে । গত ১২ জুন কুতুব সরদার সহ অন্য আসামিরা তার প্রতিষ্ঠানে যেয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় তারা চাঁদার টাকা না দিয়ে বাজারে ব্যবসা করতে দেবে না বলে জানায়।
সর্বশেষ ১৭ জুন সন্ধ্যায় ওই ২০ হাজার টাকা না দেয়ায় কুতুব সরদার শহিদুলের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সরাফত হোসেন, শরিফ ও আল আমিনসহ তিন চারজন মিলে রড ও বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। একই সাথে শহিদুলের পকেটে থাকা নগদ ১১ হাজার ৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এর আগে চাঁদা দাবি ও মারপিটের অভিযোগে একই বাজারের সাজ ক্যাবল নেটওয়ার্কের মালিক সবুজ খান বাদী হয়ে বাঘারপাড়া থানায় কুতুব উদ্দিনসহ কয়েকজনের নামে মামলা করেন। মামলায় কুতুব উদ্দিনসহ দেবিনগর গ্রামের ভূদেব চন্দ্র রায়ের ছেলে সুজন রায় ও পাকেরালী গ্রামের জামাল গাজীর ছেলে টুটুল গাজীকে আটক করে পুলিশ ।
এছাড়াও গত ২১ মে চেয়ারম্যান পুত্র কুতুব সরদারসহ চার জনকে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এদিন রাত ১১ টার সময় বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আচঁড়া মোড়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- বাঘারপাড়ার উপজেলার রোস্তমপুর গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে বনি আমিন , পাকেরআলী গ্রামের আব্দুল কাদের শেখের ছেলে সরাফত হোসেন, সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে আবু বক্কার শোভন পিয়াস ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদক আইনে মামলা হয়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান পুত্র কুতুব সরদারের বিরুদ্ধে নানা ধরণের অপরাধ কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। মামলায় গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় এসে আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠে। বাবা চেয়ারম্যান থাকার সুবাদে এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। এর ফলে দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে চেয়ারম্যান পুত্র কুতুব সরদার।
বাঘারপাড়া থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুক হোসেন জানান, আইন সবার জন্য সমান। আসামিদের আটকে অভিযান শুরু হয়েছে।