শুক্রবার — মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাপ্তাহিক দিন হিসেবে শুক্রবার বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। এই দিনকে কেন্দ্র করে ব্যবহৃত একটি বহুল প্রচলিত শুভেচ্ছাবার্তা হলো “জুম্মা মোবারক” (আরবি: جمعة مباركة), যার অর্থ ‘শুভ শুক্রবার’ বা ‘একটি পবিত্র শুক্রবার’। ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এ দিনের গুরুত্ব ইতিহাসের নানা স্তরে প্রসারিত।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
“জুম্মা” শব্দটি এসেছে আরবি জামা’ মূল থেকে, যার অর্থ ‘সমাবেশ’ বা ‘একত্র হওয়া’। মুসলিম ধর্মীয় অনুশাসনে শুক্রবারকে বলা হয় ইয়াওমুল জুমু’আ — অর্থাৎ সমাবেশের দিন। “মোবারক” অর্থ আশীর্বাদপুষ্ট বা পবিত্র। ফলে “জুম্মা মোবারক” বলতে বোঝানো হয় এমন এক শুক্রবার, যা বরকত ও পবিত্রতায় ভরপুর।
ইসলামের ইতিহাসে শুক্রবার একটি বিশেষ দিন হিসেবে স্বীকৃত। ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়। হাদিসে বর্ণিত আছে, শুক্রবার হলো সৃষ্টির সেরা দিন, যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে দোয়া কবুল হয়।
প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মদিনায়, যখন হিজরতের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কুবা থেকে মদিনায় যাচ্ছিলেন। পথে বনু সালিম গোত্রের এলাকায় তিনি সাহাবিদের নিয়ে প্রথম জুমার জামাতে অংশ নেন। সেদিন থেকেই মুসলিম সমাজে এটি সাপ্তাহিক সমাবেশ ও ইবাদতের দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইসলামে জুমার নামাজ ফরজ কিফায়া হিসেবে নির্ধারিত, যা মুসলিম পুরুষদের জন্য জামাতে আদায় করা আবশ্যক। এ দিনে কিছু বিশেষ সুন্নত ও আদব রয়েছে—
ক। গোসল করা ও পরিষ্কার পোশাক পরা খ। সুগন্ধি ব্যবহার করা গ। খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ঘ। দোয়া ও জিকির বৃদ্ধি করা উ। সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা
অনেক সংস্কৃতিতে শুক্রবারকে উদযাপনের দিন হিসেবে ধরা হয়। মুসলমানরা পরিবারের সঙ্গে বিশেষ খাবার খান, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করেন এবং দান-সদকা করেন।
আধুনিক যুগে “জুম্মা মোবারক” শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একটি প্রচলিত অভিবাদনে পরিণত হয়েছে। মুসলিমরা সারা বিশ্বে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনকে মেসেজ, ফোনকল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই শুভেচ্ছা জানান।