ইসলামী ইতিহাসে হারুত ও মারুত দুই রহস্যময় নামকে ঘিরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রচলিত নানা গল্প, পৌরাণিক কাহিনি ও উপকথা রয়েছে। তবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানবকল্পনা নয়—বরং আল্লাহর বাণীই এদের প্রকৃত পরিচয় ব্যাখ্যা করে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইরাকের প্রাচীন ব্যাবিলন বা বাবেল শহরেই এই ঘটনার প্রেক্ষাপট। কোরআনের সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২-এ উল্লেখ রয়েছে যে, “মানুষ শয়তানদের কাছ থেকে জাদুবিদ্যা শিখেছিল, যারা সোলাইমান (আ.)-এর রাজত্বকালে কুফরি করেছিল।” ঐ আয়াতে বলা হয়, বাবেলে হারুত ও মারুত নামে দুই ফেরেশতার ওপর জাদুবিদ্যার পরীক্ষা অবতীর্ণ হয়েছিল।
তাঁরা কাউকে শিক্ষা দেওয়ার আগে সতর্ক করতেন—“আমরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছি; তাই তুমি কুফরি করো না।” কিন্তু বহু মানুষ সেই জ্ঞান অপব্যবহার করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর মতো কাজে লিপ্ত হয়। কোরআন স্পষ্ট জানায়, তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও অনিষ্ট করতে পারত না।
প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) উল্লেখ করেছেন, নবী সোলাইমান (আ.)-এর বিরুদ্ধে জাদুবিদ্যা ব্যবহারের অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, ইবলিশ ও তার অনুসারীরাই এই জাদু প্রচার করেছিল এবং নিষিদ্ধ বইগুলোকে “সোলেমানি তাবিজ” নামে চালু করেছিল।
ইমাম তাবারি (রহ.) ও ইবন জারির (রহ.)-এর ব্যাখ্যায় দেখা যায়, “হারুত ও মারুত” শব্দ দুটি কখনও ফেরেশতা (“মালাকাইনে”) হিসেবে, আবার কখনও শাসক (“মালিকাইনে”) অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফেরেশতা হিসেবে তারা মানবজাতির পরীক্ষার মাধ্যম ছিলেন, শাস্তি প্রাপ্ত কেউ নন।
কোরআনের ভাষায়, “তারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে না এবং যা আদেশপ্রাপ্ত, তা-ই সম্পাদন করে।” (সুরা আত-তাহরিম: ৬)
অতএব, হারুত-মারুতকে ঘিরে “জোহরা নামের নারী” সংক্রান্ত গল্পগুলো নিছক মনগড়া ও অবিশ্বাস্য কল্পনা—যা ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরআনের এই অংশ মানবজাতিকে শিক্ষা দেয় যে, জ্ঞান ও ক্ষমতা সবসময়ই এক পরীক্ষা। এর অপব্যবহারই মানুষকে বিপথে নিয়ে যায়।
শেষত, ইসলামী দৃষ্টিতে হারুত ও মারুত আল্লাহর নির্দেশে প্রেরিত ফেরেশতা, যাঁদের মাধ্যমে মানবজাতিকে জাদুবিদ্যা ও পরীক্ষার বাস্তবতা বোঝানো হয়েছিল।