কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো থেকে এবার রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক খোলার পর সেখানে জমা হওয়া টাকা রাখার জন্য ৩৫টি বস্তা ব্যবহার করতে হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। গণনার প্রথম তিন ঘণ্টাতেই সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ডিজিএম রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া গণনার কাজ এখনো চলছে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ গণনার কাজে ব্যাংক কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নিচ্ছেন।
রেকর্ড সংখ্যক দানবাক্স ও বস্তা সাধারণত পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো তিন থেকে চার মাস পরপর খোলা হয়। তবে এবার সময় কিছুটা বেশি হওয়ায় সিন্দুকগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে নিয়মিত ১০টি লোহার সিন্দুকের পাশাপাশি অতিরিক্ত তিনটি টিনের বাক্স বসাতে হয়েছিল। শনিবার সকালে এসব বাক্স খোলার পর টাকার পরিমাণ দেখে উপস্থিত কর্মকর্তারা বিস্মিত হন।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট সর্বশেষ যখন দানবাক্স খোলা হয়েছিল, তখন রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা টাকা গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন। দান করা বিপুল অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে।
টাকার পাশাপাশি এবারও দানবাক্সে বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং হীরা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোথায় যায় এই বিপুল অর্থ? পাগলা মসজিদে মানুষের এই বিপুল দানের অর্থ মূলত জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। এছাড়া জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজেও এই তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হয়।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে এই মসজিদটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ‘ইসলামিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই কমপ্লেক্সটিতে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন, যার নির্মাণকাজ দ্রুতই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।