ডেস্ক রিপোর্ট।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইসলাম ধর্মে ইবাদতের জন্য যে কয়টি রাতকে বিশেষভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে, তার মধ্যে শবেবরাত বা শাবান মাসের মধ্যরাত অন্যতম। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি মূলত ক্ষমা ও মুক্তির রাত, যেখানে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দেন।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করা এবং দিনের বেলা রোজা রাখা নবিজি মুহাম্মদ (সা.)-এর বিশেষ নির্দেশনা। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবস্থান করেন এবং ক্ষমাপ্রার্থী ও রিজিকপ্রার্থীদের আহ্বান জানাতে থাকেন।
রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের আমল হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রাতে অত্যন্ত দীর্ঘ সেজদার মাধ্যমে নামাজ আদায় করতেন। এমনকি মক্কা ও মদিনার প্রাচীন ঐতিহ্যেও এই রাতে মসজিদুল হারামে সমবেত হয়ে দীর্ঘ নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে সারা রাত কাটানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। বিখ্যাত তাবেয়ি ও খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ নিজেও এই রাতে বিশেষ ইবাদতে মগ্ন হতেন এবং অন্যদের উৎসাহিত করতেন।
কী করবেন এবং কী বর্জন করবেন? শবেবরাতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ। এ জন্য নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তওবা-ইস্তেগফার ও দান-সদকার মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। তবে সামাজিক কিছু রীতিনীতি ইবাদতের এই পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞ আলেমরা।
বিশেষ করে হালুয়া-রুটি বা মজাদার খাবার তৈরিতে অতি ব্যস্ত হয়ে ইবাদতের সময় নষ্ট করা, আতশবাজি ফোটানো এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে অপচয় করাকে ইসলামি শরিয়ত সমর্থন করে না। এ ছাড়া শবেবরাতের অজুহাতে হই-হুল্লোড় বা মসজিদের পরিবেশ নষ্ট করা থেকেও বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মূলত লোক দেখানো উৎসবের চেয়ে ব্যক্তিগত নিভৃত ইবাদত এবং পরদিন রোজা রাখার মাধ্যমেই এই রাতের প্রকৃত বরকত হাসিল করা সম্ভব বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।