লাইফস্টাইল ডেস্ক: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী একজন মুসলিম নারী বা পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিকটাত্মীয়ের সাথে দেখা করা বা সাক্ষাৎ জায়েজ, যাদেরকে পরিভাষায় ‘মাহরাম’ বলা হয়। পক্ষান্তরে যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ নেই এবং পর্দা করা ফরজ, তারা হলেন ‘গায়েরে মাহরাম’। অনেক সময় সঠিক জ্ঞানের অভাবে আমরা পারিবারিক পরিমণ্ডলে পর্দার বিধান লঙ্ঘণ করে ফেলি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পবিত্রতা বজায় রাখতে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য মাহরাম ও গায়েরে মাহরামের তালিকা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
একজন পুরুষের জন্য মাহরাম তারা, যাদের সাথে বিয়ে চিরস্থায়ীভাবে হারাম।
যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ (মাহরাম):–
রক্তের সম্পর্ক: মা, নানী, দাদী, মেয়ে, নাতনী, আপন বোন, ফুপু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে ও বোনের মেয়ে।
দুধের সম্পর্ক: দুধ মা এবং দুধ বোন।
বৈবাহিক সম্পর্ক: স্ত্রী, শাশুড়ি, ছেলের স্ত্রী (পুত্রবধূ) এবং সৎ মেয়ে।
যাদের সাথে পর্দা করা ফরজ (গায়েরে মাহরাম):–
ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবী): সমাজের প্রচলিত প্রথা হলেও ইসলামে ভাবী গায়েরে মাহরাম।
বোন ও ভাইয়ের সম্পর্কের আত্মীয়া: শ্যালিকা (স্ত্রীর বোন), চাচাতো বোন, মামাতো বোন, ফুফাতো বোন ও খালাতো বোন।
অন্যান্য: মামী, চাচী, স্ত্রীর ভাবী, শ্যালক বা শ্যালিকার মেয়ে, এবং ছেলে বা মেয়ের শাশুড়ি।
একজন নারীর জন্য মাহরাম তারা, যাদের সামনে তিনি স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত হতে পারেন।
যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ (মাহরাম):–
রক্তের সম্পর্ক: বাবা, দাদা, নানা, ছেলে, নাতি, ভাই, চাচা, মামা, ভাইয়ের ছেলে ও বোনের ছেলে।
দুধের সম্পর্ক: দুধ বাবা এবং দুধ ভাই।
বৈবাহিক সম্পর্ক: স্বামী, শ্বশুর এবং স্বামীর পূর্বের পক্ষের ছেলে (সৎ ছেলে)।
যাদের সাথে পর্দা করা ফরজ (গায়েরে মাহরাম):–
স্বামীর ভাই: দেবর ও ভাসুর (রাসূলুল্লাহ সা. দেবরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন)।
বোনের স্বামী: দুলাভাই।
ভাই ও বোনের সম্পর্কের আত্মীয়: চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই, ফুফাতো ভাই ও খালাতো ভাই।
অন্যান্য: খালু, ফুপা, ননদের স্বামী, স্বামীর দুলাভাই, এবং ছেলে বা মেয়ের শ্বশুর।
ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাহরাম ও গায়েরে মাহরামের এই তালিকা কেবল পর্দার জন্যই নয়, বরং পারিবারিক ও চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার একটি ঢাল। পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নূরে স্পষ্টভাবে মাহরামদের সামনে সৌন্দর্যের প্রকাশ এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে পর্দার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনেকেই মনে করেন চাচী, মামী বা খালু-ফুপারা বয়সে বড় হওয়ায় তাদের সাথে পর্দা নেই। কিন্তু শরিয়ত অনুযায়ী তারা ‘গায়েরে মাহরাম’ এবং তাদের সাথে পর্দার বিধান মানা বাধ্যতামূলক। একইভাবে, দেবর-ভাবী বা দুলাভাই-শ্যালিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, কারণ এই সম্পর্কগুলোতে ফিতনার আশঙ্কা বেশি থাকে।
পরিশেষে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে নিজের মাহরাম ও গায়েরে মাহরামের তালিকা জেনে রাখা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা ইমানের দাবি।