দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। রমজানের এই বিশেষ ইবাদতের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো তারাবি নামাজ, যা আজ বুধবার এশার নামাজের পর থেকে সারা দেশে জামাতে বা ব্যক্তিগতভাবে আদায় করা শুরু হয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইসলামি শরিয়তে তারাবি নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যথাযথভাবে এই নামাজ আদায় করলে একজন মুমিন বান্দা অতীতের গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
তারাবি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো বিশ্রাম নেওয়া। পারিভাষিক অর্থে, রমজান মাসে এশার ফরজ নামাজের পর এবং বিতর নামাজের আগে যে সুন্নাহ নামাজ আদায় করা হয়, তাকেই তারাবি বলা হয়। প্রতি চার রাকাত পর পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয় বলে এই নামাজের এমন নামকরণ করা হয়েছে।
বিশ্বনবী (সা.) এই নামাজের প্রবর্তন করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের এটি আদায়ের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে এবং রাতে তারাবি নামাজ পড়বে, সে তার জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে।
তারাবি নামাজ মূলত দুই রাকাত করে আদায় করা হয়। প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফেরাতে হয় এবং চার রাকাত শেষ হওয়ার পর বিরতি নিয়ে তাসবিহ পাঠ করা উত্তম।
নিয়তের ক্ষেত্রে আরবি বা মনে মনে সংকল্প করলেই চলে। জামাতে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে ‘ইক্বতাদাইতু বি হাজাল ইমাম’ বা এই ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করছি—এই বিষয়টি উল্লেখ করতে হয়। নামাজ শেষে জান্নাত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া পাঠ করা এই ইবাদতের একটি নিয়মিত অংশ।
রমজানের শুরুতেই তারাবি নামাজকে কেন্দ্র করে দেশের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বড় মসজিদগুলোতে খতম তারাবির মাধ্যমে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শোনার জন্য ভিড় করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।