যাকাতুল ফিতর খাদ্যদ্রব্য দিয়ে আদায় করার সপক্ষে এবং টাকা দিয়ে আদায়ের বিপক্ষে অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু হাদীসের উদ্ধৃতি নিচে উপস্থাপন করা হলো। এই দলিলগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ ফিতরাকে ‘খাদ্য’ হিসেবেই নির্ধারণ করেছিলেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম (রাহ.) বর্ণনা করেছেন:
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: فَرَضَ رَسُولُ اللهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ…
অনুবাদ: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ $ (ﷺ) $ যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন—এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব…” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫০৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৮৪)
বিশ্লেষণ: এখানে ‘সা’ (এক প্রকার পাত্রের মাপ) ব্যবহার করা হয়েছে যা কেবল দানা জাতীয় খাদ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, টাকার ক্ষেত্রে নয়।
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী (রাযি.) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁরা কী দিতেন:
كُنَّا نُخْرِجُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ يَوْمَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ
অনুবাদ: আবু সাঈদ খুদরী (রাযি.) বলেন: “আমরা রাসূলুল্লাহ $ (ﷺ) $ এর যুগে ঈদুল ফিতরের দিন এক সা’ খাদ্য (ত্বআম) বের করতাম।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫১০)
গুরুত্বপূর্ণ নোট: এখানে ‘ত্বআম’ বা খাদ্য শব্দটি ব্যাপক। ওই যুগে মদিনার প্রধান খাদ্য ছিল যব বা খেজুর, তাই তাঁরা তা দিতেন। বর্তমানে আমাদের প্রধান খাদ্য ‘চাল’ হওয়ায় চাল প্রদান করা এই হাদীসেরই অন্তর্ভুক্ত।
হাদীসে ফিতরা প্রদানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে এভাবে:
فَرَضَ رَسُولُ اللهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ، وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ
অনুবাদ: ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ $ (ﷺ) $ যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন রোজাদারের অনর্থক কথা ও কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের খাবারের (তু’মাতান) জন্য।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৬০৯; ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৮২৭)
পয়েন্ট: হাদীসে ‘তু’মাতান’ (খাবার) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, ‘সাদাক্বাতান’ (দান) বা ‘সামানান’ (মূল্য) বলা হয়নি।
হানাফী ভাইদের দাবি—তখন ছোট মুদ্রা ছিল না বলে খাদ্য দেওয়া হতো—তা খণ্ডন করে এই হাদীসটি লক্ষ্য করুন:
قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا رَعَى الْغَنَمَ… كُنْتُ أَرْعَاهَا عَلَى قَرَارِيطَ لِأَهْلِ مَكَّةَ
অনুবাদ: নবী $ (ﷺ) $ বলেন: “আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি বকরী চরাননি… আমি মক্কাবাসীদের বকরী চরাতাম কয়েক কীরাতের বিনিময়ে।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৬২)
যুক্তি: কীরাত হলো দিরহামের চেয়েও অনেক ছোট মুদ্রা। অর্থাৎ রাসূল $ (ﷺ) $ এর যুগে ছোট মুদ্রার প্রচলন ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ফিতরায় মুদ্রা দিতে বলেননি।
ইমাম বিন বায (রাহ.) এবং শাইখ উসাইমীন (রাহ.) এর ফাতওয়া অনুযায়ী:
ইবাদতের মূলনীতি হলো ‘আত-তাওকীফ’। অর্থাৎ কুরআন ও সহীহ হাদীসে যেভাবে এসেছে, ঠিক সেভাবেই পালন করতে হবে। যেহেতু রাসূল $ (ﷺ) $ এবং তাঁর সাহাবীগণ কখনো মূল্য বা টাকা দেননি, তাই খাদ্যদ্রব্য বাদ দিয়ে টাকা দেওয়া সুন্নাহর পরিবর্তন করার শামিল।