রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা। তারা বলছেন, রমজানের শিক্ষা কেবল এক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর জীবনে বাস্তবায়ন করাই এই মাসের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইসলামে রোজার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে পবিত্র আল-কুরআনে বলা হয়েছে, রোজা ফরজ করা হয়েছে যাতে মানুষ তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারে। তাই রমজান শেষে এই তাকওয়ার অনুশীলন অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ধর্মীয় আলোচনায় বলা হয়, রমজানে মুসলমানরা বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজ আদায় করেন। হাদিসে কোরআন শেখা ও অন্যকে শেখানোর গুরুত্বের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তাই রমজানের পরও নিয়মিত কোরআন পড়া ও ইবাদতের অভ্যাস বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া রমজানে যেমন মানুষ চোখ, কান ও জিহ্বা সংযত রাখে, রাগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকে, তেমনি সারা বছরও এই সংযম বজায় রাখা উচিত বলে ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে।
ইসলামী শিক্ষায় আরও বলা হয়েছে, আমল অল্প হলেও নিয়মিত করা আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। কোরআনেও মৃত্যু পর্যন্ত ইবাদত করে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই রমজানের পর ভালো পরিবেশ, সৎ বন্ধু নির্বাচন এবং আখিরাতের জন্য কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ধর্মীয় বক্তারা বলেন, দুনিয়ার মোহে না পড়ে মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই একজন সচেতন মানুষের কাজ। তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন সবাই সারা বছর খাঁটি নিয়তে ভালো আমল করার তৌফিক পান।