নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ রুখতে একটি কঠোর ও নতুন আইন পাস করেছে জাতীয় সংসদ। আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উত্থাপিত ‘জাতীয় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ বিলটি সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করা হলো।
নতুন এই আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সাথে আইনের আওতাধীন সব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সংসদে বিলটি পাসের সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। এর আগে গত ২৩ জুন বিলটি উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা করতে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, পুরোনো আইনটি বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া মোকাবিলায় যথেষ্ট ছিল না। ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভিপিএন এবং ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুয়া ও অর্থপাচার এখন তরুণ সমাজ ও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন আইনে জুয়া, অনলাইন বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল ওয়ালেটের ব্যবহারসহ মোট ২৪টি বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করে ১৪ ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ জুয়ার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও অনলাইন বেটিং ও বাজিকরদের জন্য তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাত বছর জেল ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া সিম বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতি করে সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে জুয়া খেললে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি হবে দ্বিগুণ।
আইনের বড় একটি দিক হলো, জুয়ার বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা চালালে শুধু জুয়াড়ি নয়—শিল্পী, খেলোয়াড়, সেলিব্রিটি বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদেরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। অপরাধে জড়িত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা কোম্পানির পরিচালকদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
নতুন এই আইনের অধীনে অনলাইন ও সাইবার স্পেসের অপরাধগুলোর বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং সাধারণ অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি আদালতে। সাব-ইন্সপেক্টরের নিচের কোনো পুলিশ কর্মকর্তা এর তদন্ত করতে পারবেন না। পাশাপাশি জুয়া প্রতিরোধে একটি ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ’ ও বিশেষ ‘আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স’ গঠনের কথা বলা হয়েছে এই আইনে। প্রয়োজনে জুয়া সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারকে।