বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে মানুষ জীবিকা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানাবিধ পার্থিব কাজে এতটাই নিমগ্ন হয়ে পড়ে যে, অনেক সময় আত্মিক চাহিদার কথা ভুলে যায়। এর ফলে মানসিক অস্থিরতা, ক্লান্তি ও উদ্বেগ বেড়ে যায়। ইসলামে পবিত্র জুমআর দিনকে এমন এক সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা মানুষকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে আল্লাহর স্মরণে ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ছেড়ে দাও।” (সূরা আল-জুমআ: ৯)
এই আয়াতের মাধ্যমে জুমআর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে পার্থিব কাজে ব্যস্ত থাকার পর জুমআ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের প্রকৃত সফলতা কেবল দুনিয়াবি অর্জনে নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই নিহিত।
হাদিসে জুমআর দিনকে মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ দিনে গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, আগে আগে মসজিদে যাওয়া, সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা এবং বেশি বেশি দরুদ ও ইস্তিগফার পাঠ করা ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
জুমআর খুতবা মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত করে, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয় এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে মসজিদে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে।
ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ জীবনে আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের জন্য জুমআর তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তরিকতার সঙ্গে জুমআর ইবাদত ও আমল পালনের মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারেন এবং হৃদয়ে শান্তি লাভের আশা করতে পারেন।