বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (কৃত্রিম প্রজনন) পদটি টানা তিন বছর ধরে শূন্য থাকায় সরকারি কৃত্রিম প্রজনন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার শত শত খামারি ও গাভী পালনকারী। ফলে বাধ্য হয়ে ইউনিয়নভিত্তিক এআই কর্মী কিংবা বেসরকারি সেবাদাতার কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি খরচে সেবা নিতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (কৃত্রিম প্রজনন) পদটি শূন্য রয়েছে। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পদটি পূরণের জন্য চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো নিয়োগ হয়নি। শুধু এ পদই নয়, দপ্তরে আরও একটি ভেটেরিনারি সার্জন, দুটি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একটি কম্পাউন্ডার পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের তরল সিমেনের মূল্য ৫০ টাকা এবং হিমায়িত সিমেনের মূল্য ৭৫ টাকা। কিন্তু সরকারি জনবল না থাকায় খামারিদের একই সেবার জন্য ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় খামারিরা জানান, সময়মতো কৃত্রিম প্রজনন সেবা না পাওয়ায় গবাদিপশুর উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও অনেক সময় প্রয়োজনের মুহূর্তে সেবা পাওয়া যায় না। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ছোট ও বড় খামারিরা।
গাভী পালনকারী আবুল কাশেম বলেন, “সরকারি ফি খুবই কম হলেও জনবল না থাকায় আমাদের কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। দ্রুত ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (কৃত্রিম প্রজনন) ও অন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হলে উপজেলার শত শত খামারি উপকৃত হবেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, “শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে পত্র পাঠানো হয়েছে। পদগুলো পূরণ হলে মাঠপর্যায়ে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।”