মনির আহমদ আজাদ / লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬), সকাল ৮টা ৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শালিসী বৈঠকে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী অনির্বাচিত ব্যক্তিদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে এসব ব্যক্তি মধ্যস্থতার নামে বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন, যা ন্যায়বিচারের পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২নং আমিরাবাদ ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা ও অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের শালিসে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের উপস্থিতি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এসব ব্যক্তি কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হওয়া সত্ত্বেও শালিসী বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করেন। এতে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শালিস ও বিরোধ মীমাংসাকে কেন্দ্র করে একটি চক্র ‘তদবির’কে আয়ের উৎসে পরিণত করেছে। কোনো পক্ষের হয়ে সুপারিশ করা কিংবা বৈঠকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ একটি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।
স্থানীয়রা জানান, শালিসী বৈঠক যদি রাজনৈতিক প্রভাব বা ‘তদবির’ নির্ভর হয়ে পড়ে, তবে দুর্বল ও অসহায় পক্ষ ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবর্তে আরও চাপের মুখে পড়ে। জনপ্রতিনিধির চেয়ার ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র নয়, বরং এটি জনগণের আমানত বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় নাগরিকদের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদের শালিসী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অযাচিত প্রভাব ও তদবির-বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।