মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ২০২৬, সকাল ১০টা ৩০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক, অস্ত্র ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। গত দেড় মাসে বিভিন্ন মামলার আসামি ও অপরাধে জড়িত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ও অপরাধসংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই পৃথক চারটি অভিযানে ৬৩ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার ও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া ১ আগস্ট চুনতি ফরেস্ট রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে একটি প্রাইভেটকারে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, শুধু মাদক নয়, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারেও নিয়মিত অভিযান চলছে। দূরপাল্লার বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও পিকআপসহ সন্দেহজনক যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অভিযান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “মাদক ও অপরাধ দমনে থানা পুলিশের অভিযান নিয়মিত চলছে। গত দেড় মাসে শতাধিক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “অপরাধী ও মাদক কারবারিদের কোনো বাড়ি বা বাসা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার পরিচয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা ও পেশাগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য বাড়ির মালিকদের প্রতি আহ্বান জানাই। অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় লোহাগাড়ায় মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, বাড়ির মালিক, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় লোহাগাড়াকে আরও নিরাপদ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।