স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার (১৯ আগস্ট), সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
খুলনার কামরুল খানকে মাত্র দেড় হাজার টাকার বিরোধে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দীর্ঘদিনের বন্ধু আল-আমিনের বিরুদ্ধে। গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়ার একটি বাসা থেকে কামরুলের পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আল-আমিনকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকায় একটি বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে কামরুলের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই খুলনা জেলার সহযোগিতায় তেরখাদা এলাকা থেকে আল-আমিনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, “গ্রেফতার আল-আমিনের কাছ থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি ঘটনাস্থলের বাথরুমের প্যান থেকে উদ্ধার করা হয়।”
তদন্তে জানা যায়, কামরুল ও আল-আমিন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বন্ধু এবং তারা পেশায় রাজমিস্ত্রি। গত ৮ আগস্ট তারা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় এসে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করেন। গত ১৪ আগস্ট রাতে টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে কামরুলকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন আল-আমিন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হলে আল-আমিন কক্ষে তালা দিয়ে খুলনায় পালিয়ে যান।
পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার কোনো পরিচয়পত্র সংরক্ষণ না করায় তদন্তে শুরুতে বেগ পেতে হয়েছিল বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।