নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ এবং পুনরায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর আশঙ্কায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। রবিবার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের জগদীশ মন্ডল (২৫), প্রদীপ মন্ডল (২২), মিলন মন্ডল (২৩), গৌর মন্ডলের স্ত্রী সবিতা রানী (৫০) ও মৃত মনোরঞ্জন রপ্তানের স্ত্রী চারু রানী (৫৫) এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জগদীশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল (৪০) তাদের প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকাশ চন্দ্র মন্ডলের স্ত্রীর ধর্ষণের অভিযোগে ২০২৫ সালে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন শ্যামনগর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জগদীশ বলেন, ওই মামলা নিষ্পত্তির পথে থাকলেও প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগস্ট শ্যামনগর থানায় পাওয়ার ট্রিলার পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেন। ফলে তা নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদে জগদীশ, জয়দেব, প্রদীপ, মিলনসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনকে জড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
জগদীশ আরও বলেন, জয়দেব ঢাকায় চাকরি করেন এবং ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। তাই প্রকাশিত সংবাদে তার নাম আসা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জয়দেব মন্ডলের মা সবিতা রানী বলেন, প্রকাশ চন্দ্র মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে তাদের বসতভিটা নিয়ে প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে বিরোধ রয়েছে। তাদের জায়গা জবরদখল করে রাখারও অভিযোগ করেন তিনি। এই বিরোধের জেরে তার ছেলে জয়দেবের বিরুদ্ধে আগে মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন সবিতা রানী। বর্তমানে ঢাকায় চাকরিরত ছেলেকে আবারও মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রদীপ মন্ডল বলেন, বসতভিটা নিয়ে প্রকাশ চন্দ্র মন্ডলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ কারণে এর আগেও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছিল। পুলিশি তদন্তে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে তাকে পুনরায় মামলায় জড়ানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রদীপ।
খুলনায় অবস্থানরত দেবব্রত রপ্তানের মা চারু রানী বলেন, তার স্বামী মারা যাওয়ার পর অভাবের কারণে তার ছেলে দেবব্রত প্রকাশ চন্দ্র মন্ডলের ডেকোরেশন ব্যবসায় প্রায় ৭-৮ মাস কাজ করেন। তবে কাজের পারিশ্রমিক যথাযথভাবে না পাওয়ায় তিনি কাজ ছেড়ে দেন। এরপর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে আবারও তার ছেলেকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন চারু রানী।
মিলন মন্ডল বলেন, তিনি প্রকাশ চন্দ্র মন্ডলের পাওয়ার ট্রিলার চালাতেন। দুই বছর ধরে কাজের পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা বলা হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ তার। এ কারণে তিনি পাওয়ার ট্রিলার চালানো বন্ধ করে দেন। এর জের ধরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল এবং এখন আবারও তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, পাওয়ার ট্রিলার পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের বা পরিবারের সদস্যদের হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলায় জড়ানো থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ চন্দ্র মন্ডলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।