মো: আরিফুল ইসলাম,
পাবনা জেলা প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পাবনা জেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাহসিকতা, সততা, নিষ্ঠা ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সাহসিকতা) পেয়েছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) অসিত কুমার বসাক। বর্তমানে তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা, চট্টগ্রামে কর্মরত রয়েছেন। পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে অসিত কুমার বসাক অপরাধ দমনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেন। অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, ডাকাতি ও চুরির মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং চোরাই ও হারানো মালামাল উদ্ধারে তাঁর ভূমিকা বিভিন্ন সময়ে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
বিশেষ করে ২০২৫ সালে পাবনা জেলায় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাবনা জেলায় ধর্ষণ, হত্যা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ডিবির এসআই হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধীদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনতে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। পাশাপাশি চোরাই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য চোরাই মালামাল উদ্ধারের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানেও সক্রিয় ছিলেন এসআই অসিত কুমার বসাক।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে হারানো ও চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধারে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথাও জানা যায়। এর আগে ২০১৭ সালে পাবনা জেলায় বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জেপিএম (জামসেদ উদ্দিন পুলিশ সুপার মেডেল) স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২০২১ সালে আইজিপি ব্যাজও অর্জন করেন তিনি। পুলিশের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও দায়িত্ব পালন করেছেন অসিত কুমার বসাক। ২০২৪ সালে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শান্তি পদক লাভ করেন বলে তাঁর কর্মজীবন-সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে পুলিশের বিশেষ পদকের তালিকায় তাঁর নাম আসে। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) সাহসিকতা বিভাগে তাঁর নাম স্থান পায়। অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং চোরাই মালামাল উদ্ধারে ধারাবাহিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই পদক তাঁর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।