জেলা প্রতিনিধি / রাঙামাটি
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর, ২০২৬) দুপুর ১২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অবরোধের মুখে আটকা পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা প্রহরায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পর্যটকবাহী যানবাহনগুলো সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। এর আগে সকাল ৬টা থেকে অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পূজার ছুটি শেষে পুনরায় অবরোধ শুরু হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এই উদ্যোগ নেয়।
১১ অক্টোবর থেকে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। এর আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি শিথিল করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রথম দিনেই পাঁচ শতাধিক পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেন, তবে নতুন করে অবরোধে পর্যটন পরিস্থিতি ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, “অবরোধের কারণে ছুটি শেষ হওয়ার আগেই পর্যটকরা সাজেক ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এতে পর্যটক ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে ভ্রমণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে সাজেক আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হবে বলে আশা করি।”
বারবার অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবরোধের কারণ ও দাবিগুলোর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সমাধান প্রয়োজন।