মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বটতলী স্টেশন ঘিরে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, বিপণিবিতান, আবাসিক ফ্ল্যাট, হাসপাতাল, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান। বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ও জনবসতি বাড়লেও অবসর বিনোদনের জন্য উপযুক্ত স্থানের অভাব রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকায় চালু হয়েছে ‘রাখাল ছেলে এগ্রো ট্যুরিজম’।
বটতলী স্টেশনের আশপাশে গড়ে ওঠা অনেক আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু পরিবার-পরিজন নিয়ে বিকেলে ঘোরাঘুরি কিংবা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য কাছাকাছি বিনোদনকেন্দ্রের সুযোগ সীমিত। ফলে অবসর বিনোদনের জন্য স্থানীয়দের বিকল্প স্থানের ওপর নির্ভর করতে হয়।
এ অবস্থায় চুনতি এলাকায় কয়েক বছরের ব্যবধানে গড়ে উঠেছে চাম্বি লেক, আর্ক রিসোর্টস ও রাখাল ছেলে এগ্রো ট্যুরিজম। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে বিনোদনের বিকল্প তৈরি করেছে।
প্রাকৃতিক ও গ্রামীণ পরিবেশকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে রাখাল ছেলে এগ্রো ট্যুরিজম। গত ১০ অক্টোবর বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা মুহাম্মদ রেজাউল বাহার রাজা বলেন, প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানুষকে গ্রামীণ জীবনের স্বাদ ও অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগ্রো ট্যুরিজমটি চালু করা হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বল্প খরচে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের জন্য খাবার, ওয়েলকাম ড্রিংকস ও বিনোদনের আয়োজনের পাশাপাশি পিকনিকের সুবিধা এবং বিভিন্ন প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
লোহাগাড়ায় জনবসতি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবসর বিনোদনের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে নতুন পর্যটনকেন্দ্রগুলো বিকল্প সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে সাশ্রয়ী ব্যয়, নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাখাল ছেলে এগ্রো ট্যুরিজমের পরিকল্পিত সুবিধাগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে কি না, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা সালিম উল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন, হাসান মুরাদ, মেহেদী হাসান, নাজিম উদ্দিন, হারুনুর রশিদ, এস এম চিশতি, এরশাদুর রহমান, ইরফানুল হক চৌধুরী, একুশকালী, মুজিবুর রহমান, মোজাম্মেল আবদুল্লাহ ও ইসমাইলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।