নিউজ ডেস্ক
২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা ৪০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আফগানিস্তানে দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর চিকিৎসাপদ্ধতি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। ইসলামি বিধিবিধানের সঙ্গে এই অস্ত্রোপচার সাংঘর্ষিক—এমন যুক্তিতে তারা এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে কাবুল ও জালালাবাদের হাসপাতালগুলোতে চলমান এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে দাতব্য সংস্থার সহায়তায় দান করা কর্নিয়া দিয়ে প্রতিস্থাপন এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণের কার্যক্রম থমকে গেছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে শত শত রোগী চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এমনিতেই চিকিৎসক সংকট ও দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগে থেকেই বিপর্যস্ত।
দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আশা ভেঙে গেল
কাবুলের নূর আই হাসপাতালের চিকিৎসক নূর জামান হাশিম বলেন, “কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার আগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমার দল ৯০টি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেছিল। এখন হাসপাতালটিতে অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের বড় একটি অংশ তরুণ, যাদের দৃষ্টিশক্তি বিস্ফোরণ, শারীরিক আঘাত ও ওয়েল্ডিংয়ের সময় দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “কয়েক দশকের সহিংসতা আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই, আবার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্নিয়াও স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না। তালেবান মৌখিকভাবে আমাদের প্রতিস্থাপন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। কঠোর শাস্তির ঝুঁকির কারণে তাদের আদেশ অমান্য করার সাহস কারও নেই।”
যুক্তরাষ্ট্রের দাতব্য সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা (এপিপিএনএ) এই কর্মসূচিতে সহায়তা করছিল। ২০১৭ সাল থেকে সংস্থাটি বিনামূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছে। চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পর দেশটিতে ১৫০টির বেশি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
নিষেধাজ্ঞার ফলে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা রোগীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ২০২৩ সালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দৃষ্টিশক্তি হারানো এক আখের রস বিক্রেতা বলেন, “চিকিৎসকেরা আমাকে জানিয়েছিলেন সেপ্টেম্বরে আমার অস্ত্রোপচার হবে। কিন্তু আগস্টে কর্মসূচিটি বন্ধের বিষয়টি জানানোর পর থেকে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালেবান যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, এটি তার সর্বশেষ সংযোজন। এর ফলে তাদের বিধিনিষেধের প্রভাব কেবল নারী অধিকার বা শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত হলো।