জেলা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর, ২০২৬), রাত ৮:৩৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাবা ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশু তোয়াবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার বাবা গোলাপ হোসেন (৩৫)।
নিহত গোলাপ হোসেন পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি স্ত্রী শিউলি বেগম ও সন্তানদের নিয়ে দোসরপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে মেয়েকে নিয়ে দাদার বাড়িতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন তারা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় গোলাপ বাড়িতে ফিরলেও শিশু তোয়াবার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা ইটভাটার কাছে শিশুটির মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন।
নিহতের স্ত্রী শিউলি বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। এই বিরোধের জেরেই তার স্বামী ও সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গোলাপ হোসেনের মা হাসু বেগম জানান, বুধবার বিকেলে মেয়েকে নিয়ে রামকৃষ্ণদী এলাকায় সৎ বাবার কর্মস্থল ইটভাটায় দেখা করতে যান গোলাপ। সেখান থেকে ফেরার পথেই হামলাকারীরা তাদের ওপর আক্রমণ করে।
মৃত্যুর আগে গোলাপ হোসেন পুলিশের কাছে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলার ঘটনার বর্ণনা ও জড়িতদের নাম উল্লেখ করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই জবানবন্দির সূত্র ধরে পুলিশ মূল অভিযুক্তকে আটক করেছে।
মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. কামরান হোসেন বলেন, “মৃত্যুর আগে নিহতের দেওয়া জবানবন্দি ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।”
তিনি আরও জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও বিষক্রিয়ার কারণে গোলাপ হোসেনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।