নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর, ২০২৬)
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শিক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর দাবিতে ইতালিজুড়ে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ শ্রমিক। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এই সর্বাত্মক ধর্মঘট ও প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন ট্রাক চালক, ট্যাক্সি চালক ও কৃষকরা। পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রোম, মিলান, তুরিনসহ প্রধান শহরগুলোতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
ইতালির ‘ইউএসবি’ ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে এই ধর্মঘট পালিত হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজধানী রোমের কেন্দ্রীয় টার্মিনি রেলস্টেশন থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রাটি কলোসিয়াম অতিক্রম করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আকাশচুম্বী টিউশন ফি ও বাসা ভাড়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিয়েত্রিস চিল্লেল্লি বলেন, “শিক্ষার্থীরা এই মুহূর্তে চরম ধৈর্যচ্যুতির শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। আমরা আকাশচুম্বী টিউশন ফি এবং বাসা ভাড়া মেটাতে পারছি না, যা আমাদের বাবা-মায়ের ওপর প্রচণ্ড ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
বিক্ষোভের আগে ‘ওএসএ’ শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখপাত্র লরা তেরেসী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সরকারের পুনরায় অস্ত্রসজ্জা নীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমরা রাজপথে নেমেছি। শিক্ষাক্ষেত্রে অবিরাম বাজেট ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধেও আমাদের এই লড়াই।”
আইন ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
গত ১৭-১৮ অক্টোবর মিলানে যুবক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পর মেলোনি সরকার জনসমাবেশ সংক্রান্ত আইন কঠোর করেছে। তবে শুক্রবার বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক চালক, কৃষক ও জেলেদের জন্য সরকার ১৭ কোটি ৫২ লাখ ইউরোর একটি সহায়তা প্যাকেজে সম্মত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, “সরকার তরুণ ও পরিবারগুলোর সুবিধার্থে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আশা করি, এসব পদক্ষেপ তরুণ সমাজকে বার্তা দেবে যে রাষ্ট্র তাদের পরোয়া করে।”