শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে টানা ৫ দিনের কর্মসূচির তৃতীয় দিনের গণ মিছিল ও সমাবেশে জেলেরা বলেন, বনবিভাগ ড্রোন দিয়ে জেলে ধরতে পারে, কিন্তু ডাকাত ধরতে পারে না।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় বুড়িগোয়ালিনী খেয়াঘাট থেকে গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের হাজারো জেলে-বাউয়ালি, মৌয়াল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গণ মিছিল নিয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিস হয়ে উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গণ মিছিলে অংশগ্রহণ ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহবায়ক সালাউদ্দিন লিটন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জি এম রস্তুম আলী, গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব খায়রুল ইসলাম মিলন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, যুবনেতা খালিদ হোসেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন, ওহিদুল ইসলাম, আবু হোসেন, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যা ফরিদা খাতুন, সাবেক ইউপি সদস্য মাস্টার আব্দুর রহিম, সিরাজুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতা আশিকুর রহমান আশিক, ইয়াছিন আরাফাত সহ বনদস্যু নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ রবিউল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বনদস্যুদের ভয়ে জেলে-বাওয়ালিরা নিরাপদে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারছে না। অনেক সময় অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্কে তাঁদের পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আরও বলেন, স্যালেন্ডারের নাটক বন্ধ করে প্রকাশ্যে দস্যুদের শাস্তি দিতে হবে। দরকার হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকলে এক হয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও যারা এলাকায় বসে ডাকাতদের সহযোগিতা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। এবং তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
বনবিভাগের উদ্দেশ্য বক্তারা বলেন, আপনারা ড্রোন দিয়ে জেলে ধরতে পারেন, কিন্তু ডাকাত ধরতে পারেন না। জেলেদের নিরাপত্তা দিতে পারেন না। যারা কর পাশ কেটে বনে যায় তাদের নিরাপত্তা বন বিভাগকে দিতে হবে। এছাড়াও, জেলেদের দাবি মানা না হলে, গণ অনশনের ডাক দেওয়ার ঘোষনা দেন তারা।