বাঘারপাড়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় ‘৬৩ হাইব্রিড’ ধান চাষ করে কপাল পুড়েছে কৃষকদের। ম্যাপ এগ্রো কোম্পানির এ বীজের ধান গাছের আকার আকৃতি ও ধানের শীষ সঠিকভাবে বের হলেও সব ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে ক্ষেতভরা ধান। কিন্তু ধানের শীষ হাতে নিয়ে দেখা যাচ্ছে শীষের ধান সবই চিটা।
সরেজমিনে উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের ধর্মগাতি গ্রামে গিয়ে ধানের এ চিত্র দেখা গেছে।
কৃষকরা বলছেন, এ বছর তাঁরা ম্যাপ এগ্রোর হাইব্রিড ৬৩ ধান চাষ করে সীমাহীন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা। এজন্য কোম্পানির কাছে তাঁরা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালো ফলনের আশায় ম্যাপ এগ্রো কোম্পানির যশোর অফিস থেকে হাইব্রিড -৬৩ ধানের বীজ কিনে এনে চারা ফেলে ধানের চাষ করেছেন।
এ বীজের বিষয়ে বন্দবিলা ইউনিয়নের ধর্মগাতির গ্রামের কৃষক দুলাল,মিজানুর,বিমল,প্রশান্ত ও নারিকেলবাড়িয়ার খানপুর গ্রামের মহব্বত খানসহ অন্তত ৫ জন কৃষকের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁদের অভিযোগ,সঠিক পরিচর্চার পরও হাইব্রিড-৬৩ জাতের ধানের ক্ষেতে নেক ব্লাষ্ট রোগে জমির ধান সম্পূর্ণরুপে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ক্ষেত দেখলে মনে হচ্ছে ধানে ভরপুর। কিন্তু হাতে নিলেই বোঝা যাচ্ছে ধানের শীষে চিটা ছাড়া কিছুই নেই। অথচ পাশের জমিতে অন্যজাতের রোপণ করা ধান বীজের ক্ষেত স্বাভাবিক রয়েছে। এ বছর মানহীন বীজের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
ধর্মগাতি গ্রামের কৃষক কার্তিক মন্ডল এবার ১ একর ৭৫ শতাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল হাইবড়ি-৬৩ ধানের আবাদ করেছিলেন। তিনি বলেন,সময়মতো পরিচর্যাও করেছি। ধানের শীষ আসার আগে তিনি ধানের খোলপঁচা রোগের কীটনাশক স্প্রে করেন। আর শীষ বের হলে ব্লাষ্ট রোগ দমনে বায়ার কোম্পানির নাটিভো, সিনজেন্টার ভিরতাকো এবং ইনতেফার মোকাদ ব্যবহার করেন। কিন্তু কোন ফলাফল আসেনি। এখন ক্ষেত দেখে আমার মরণদশা। শুধু আমার না, শত-শত কৃষকের একই অবস্থা।
একই গ্রামের কৃষক দুলাল ১৫ কাঠা ,প্রশান্ত ২ বিঘা, বিমল ১৬ কাঠা এবং কৃষক মিজানুর ১৫ কাঠায় এধানের চাষ করেন। তারা জানান , বেশী ফলনের আশায় ধারদেনা করে হাজার হাজার টাকা খরচ করে এ ধান চাষ করেছি। ক্ষেতের অবস্থা দেখে এখন রাতে ঘুমও হয় না। আমরা বীজ কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।
জানতে চাইলে কৃষকরা জানান, এব্যপারে কৃষিকর্মতার পরামর্শে কীটনাশক স্প্রে করেও কোন ফল মেলেনি । ওই এলাকার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদূর রনমান সবুজ জানান,তিনি নিজে কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করেছি এবং পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়াও সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ কার্তিক মন্ডল কে অফিস থেকে আগামীতে প্রদর্শনী প্লটসহ অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে।
বন্দবিলা ইউপি চেয়ারম্যান সব্দুল হোসেন খান জানান, চাষিরা আমার কাছে এসে বিষয়টি জানালে তিনি উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠান।
উপজেলার নারিকেলবাড়িয়ার খানপুর গ্রামের মহব্বত খান জানান, তার ১৫কাঠা জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনিও উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড-৬৩ জাতের ধানের আবাদ করেন। একইভাবে অনেক এ জাতের ধান চাষ করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এব্যপারে জানতে বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহোল আমিন কে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।