মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদুল আযহা। ঈদকে সামনে রেখে পশু কোরবানির সরঞ্জাম জোগান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভয়নগরের বিভিন্ন স্থানের কামারশালার কারিগররা। দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
লোহার আওয়াজ, হাপরের ফোঁসফাঁস আর হাঁতুড়িপিটার টুংটাং শব্দে মুখরিত এখন উপজেলার সকল কামারপাড়া। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, হাপর দিয়ে কয়লার আগুনে লোহা পুড়িয়ে লাল করে ছোট—বড় নানা আকারের হাঁতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ছুরি, বটি, দা, চাপাতি ইত্যাদি।
নতুন অস্ত্র বানানোর পাশাপাশি পুরনো অস্ত্র শান দেওয়ার কাজও করতে হচ্ছে সমানতালে। ক্লান্তহীনভাবে চলছে কাজ, কথা বলার ফুরসত নেই কারো। এত পরিশ্রমেও তাদের মুখে হাসি ফুটছে। জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানের কামারশালায় সারা বছরই লোহার তৈরি দা, বটি, ছুরি, চাপাতি, কোদাল, কুড়াল,
কাঁচি পাওয়া যায়।
তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পুরনো যন্ত্রপাতিতে বেড়েছে শানের কাজ। বিক্রেতারা জানান, পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, দা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বটি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ৬০০টাকা, চাপাতি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ অন্য বছরের তুলনায় দা, বটি, ছুরি, চাপাতির দাম একটু বেশি।
উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারের নীল কমল কর্মকার জানান, কয়লা সষ্কট ও দা- বটি বানানোর লোহা আর ইস্পাতের দাম বৃদ্ধি। ঈদ এলে আমাদের কেনা বেচা বেড়ে যায়। ঈদের দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে থেকে কাজের চাপে দম ফেলার অবস্থা থাকে না। তবে শানের কাজ বেশি। সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। উপজেলার বেঙ্গল গেট এলাকার সুমন কর্মকার জানান, এ মুহূর্তে কারিগর সংকট। এ পেশায় এখন কেউ আসতে চায় না। ঘাটের লেবার দিয়ে কাজ করাতে হয়। গত বছরের তুলনায়
এবছর কেনা বেচা কম।
এবছর চায়না স্টিলের সরঞ্জাম কিনছে অনেকে। ঈদের আগে শেষ মুহূর্তে এসে ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় খুুশি তারা। রবীন কর্মর্কারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকার জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। তারা এ শিল্পকে
টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।