ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে একটি পুকুরে যাত্রীবাহী বাস পড়ে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গৌতম কুমার প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৮ জন নারী, ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন শিশু।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, যাত্রীবাহী একটি বাস পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে একটি পুকুরে পড়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি লাশ উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অবস্থায় অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
হতাহত ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘বাসার স্মৃতি’ নামের বাসটি আজ সকালে ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। পথে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি সদরের ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন একটি পুকুরে বাসটি পড়ে যায়।
দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মোট ১৭টি লাশ নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন নারী, ছয়জন পুরুষ ও তিনটি শিশু। ২০ জনকে আহত অবস্থায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত এক বাসযাত্রী ভান্ডারিয়া উপজেলার পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামের মো. রাসেল মোল্লা (৩৫) বলেন, ‘আমি বাসের চালকের পেছনের আসনে ছিলাম। বাসের চালক যাত্রার শুরু থেকেই বাড়তি যাত্রী ওঠানোর জন্য বারবার সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। গাড়ি চালানোয় মন ছিল না। চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। বাসটি পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। চালকের ভুলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি আরও বলেন, বাবা সালাম মোল্লাকে (৭৫) নিয়ে তিনি বরিশালে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা মারা গেছেন। তাঁর বড় ভাই মো. শাহিন (৪০) এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। সূত্র -প্রথম আলো